রাইস পিউরিটি টেস্ট কোথা থেকে এল আর কারা খেলে?
টেস্টটার জন্ম আমেরিকার রাইস ইউনিভার্সিটিতে। নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীরা পরস্পরকে চেনার জন্য এটা ভরাত আর এক বছর পরে আবার ভরে দেখত কতটা বদলেছে। পরে পুরো ইন্টারনেট এটা নিজের করে নেয়।
আজ এটা মূলত ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষ, হোস্টেলের নতুন রুমমেট আর স্কুলের পুরনো বন্ধুদের রিইউনিয়নের খেলা। ফার্স্ট ইয়ারে ৯০ পাওয়া ছেলেটা ফাইনাল ইয়ারে ৬০-এ নামলে সেটাই গল্প।

স্কোরটা কীভাবে গোনা হয়?
১০০টা বক্তব্যের প্রতিটা পড়ো আর জীবনে অন্তত একবার করে থাকলে টিক দাও। শেষে ১০০ থেকে তোমার টিকের সংখ্যা বাদ যায়, সেটাই তোমার পিউরিটি স্কোর। পাঁচটা টিক দিলে ৯৫, পঞ্চাশটা দিলে ৫০। যেটা নিয়ে কথা বলতে চাও না, সেটা খালি রেখে দাও; কেউ জানবে না কোনটা টিক দিয়েছ।
স্কোরের সাথে ছয়টা ব্যান্ডের একটা লেবেল আসে, তুষারের মতো পিউর থেকে শুরু করে একদম লিজেন্ড পর্যন্ত, সাথে এক লাইনের মন্তব্য।
কোন ধরনের কথা তালিকায় আছে?
বক্তব্যগুলো হালকা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে গভীরে যায়। ধরনগুলো মোটামুটি এমন:
- হাত ধরা, প্রথম চুমু আর কাউকে লুকিয়ে ডেট করা
- মা-বাবাকে না বলে রাতে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া
- পরীক্ষায় নকল বা বানানো সাইন নিয়ে ধরা পড়া
- নেশা করে এমন কিছু বলা যা পরদিন মনে নেই
- এমন কাজ যা আজও কাছের বন্ধুও জানে না
কোন স্কোরকে কী বলে?
৯৮ থেকে ১০০ হলে তুমি তুষারের মতো পিউর, ৯৪ থেকে ৯৭ প্রায় নিষ্পাপ, ৭৭ থেকে ৯৩ একদম স্বাভাবিক, ৪৫ থেকে ৭৬ অভিজ্ঞ মানুষ, ৯ থেকে ৪৪ ওয়াইল্ড চাইল্ড, আর ৮ বা তার নিচে একদম লিজেন্ড। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী মাঝের দুটো ব্যান্ডে পড়ে, তাই ৭০ বা ৮০ পেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
হোস্টেলে আর বন্ধুমহলে এটা এত জনপ্রিয় কেন?
ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটের ক্যাম্পাসে নতুন ব্যাচ এলে পরিচয়ের একটা সহজ রাস্তা দরকার হয়, আর এই টেস্ট ঠিক সেটা দেয়। প্রশ্ন করতে হয় না, শুধু স্কোর বলতে হয়, বাকিটা সবাই আন্দাজ করে নেয়। তাই র্যাগ ডে, ট্যুরের বাসে বা ছাদের আড্ডায় কেউ না কেউ ঠিকই লিংকটা পাঠায়।
অনেকে এটা বছরে একবার দেয়, যেমন জন্মদিনে বা সেমিস্টার শেষে, আর পুরনো স্ক্রিনশটের সাথে মেলায়। স্কোর কমতে দেখা একরকম বড় হওয়ার প্রমাণ, আর স্কোর না কমলে বন্ধুরাই সেটা নিয়ে খোঁচা দেয়।
রাইস পিউরিটি টেস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
রাইস পিউরিটি টেস্টে ১০০ পাওয়া কি সম্ভব?
সম্ভব, তবে খুব বিরল। ১০০ মানে ১০০টা বক্তব্যের একটাতেও টিক দাওনি, হাত ধরা পর্যন্ত নয়। প্রতি ব্যাচে দু-একজন এমন থাকে, আর তারা সাধারণত সেটা গর্ব করেই বলে। ৯৮ বা ৯৯ অনেক বেশি দেখা যায়।
ছেলেদের আর মেয়েদের গড় স্কোরে কি পার্থক্য আছে?
বড় কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই, আর থাকলেও বন্ধুমহলের ভেতরের পার্থক্য তার চেয়ে অনেক বেশি। কে কোন শহরে বড় হয়েছে, হোস্টেলে থাকে কি না আর বয়স কত, এগুলো লিঙ্গের চেয়ে স্কোরে বেশি প্রভাব ফেলে।
রাইস পিউরিটি টেস্টের তালিকায় কি সেক্স নিয়ে প্রশ্ন আছে?
হ্যাঁ, বেশ কিছু বক্তব্য শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে, আর ভাষাটা ঘুরিয়ে নয়, সরাসরি। এজন্যই এটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। অস্বস্তি হলে সেই বক্তব্যগুলো খালি রাখো; স্কোরে সেগুলো 'করা হয়নি' ধরা হয়।
স্কোর কি ব্রাউজার বন্ধ করলে হারিয়ে যায়?
হ্যাঁ। সাইটে কিছুই জমা থাকে না, তাই পেজ ছেড়ে গেলে সংখ্যাটা আর ফেরত পাবে না। পরে মেলাতে চাইলে রেজাল্ট পেজের স্ক্রিনশট নিয়ে রাখো বা শেয়ার কার্ডটা নিজেকেই পাঠিয়ে দাও।
কম স্কোর মানে কি আমি খারাপ মানুষ?
একেবারেই না। কম স্কোর মানে তুমি বেশি কিছু করেছ, ভালো-মন্দ কিছু নয়। ২৫ পাওয়া কেউ অসাধারণ বন্ধু হতে পারে, আর ৯৯ পাওয়া কেউ ভয়ানক বিরক্তিকর। সংখ্যাটা একটা গল্পের সূচনা, বিচার নয়।
মোবাইলে রাইস পিউরিটি টেস্ট দেওয়া যায়?
যায়, আর বেশিরভাগ মানুষ ফোনেই দেয়। তালিকাটা একটা লম্বা স্ক্রল, প্রতিটা বক্তব্যের পাশে বক্স। নেট ধীর হলেও সমস্যা নেই, কারণ পেজটা একবার লোড হলে আর কিছু ডাউনলোড হয় না।
রাইস পিউরিটি টেস্ট ছাড়া এরকম আর কী খেলা যায়?
একই দলে বসে নেভার হ্যাভ আই এভার খেললে একই ধরনের স্বীকারোক্তি সবার সামনে আসে, আর সেটা অনেক বেশি হইচইয়ের। নিজের বয়সটা ভেতর থেকে কত সেটা দেখতে মানসিক বয়স টেস্ট আছে।
আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো
- নেভার হ্যাভ আই এভার৯০টি বাক্য, তিন লেভেল, এক ফোঁটা দয়া নেই। করেছি বা কখনো না ট্যাপ করো আর তোমার কাউন্ট বাড়তে দেখো।
- ট্রুথ অর ডেয়ারতিন লেভেলে ১২০টি ট্রুথ আর ডেয়ার, বন্ধুসুলভ থেকে স্পাইসি। লেভেল বেছে নাও আর ফোনটা ঘুরিয়ে দাও।
- উড ইউ র্যাদার৮৪টি অসম্ভব বাছাই, ক্লাসিক থেকে ঘিনঘিনে আর অপ্রস্তুতকর। তোমার উত্তরে ট্যাপ করো আর দেখো কত শতাংশ তোমার সাথে একমত।
- স্পিন দ্য বটলবোতল নেই? কোনো সমস্যা নেই। বন্ধুদের নাম যোগ করো, ঘোরাও, আর বোতলই ঠিক করুক কে ট্রুথের উত্তর দেবে বা ডেয়ার করবে।